DNA questioned as cop mounts defence at murder trial
· Perth Now

· Perth Now

· NDTV

Visit freshyourfeel.com for more information.
· Prothom Alo

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। বিদ্রোহীরা পরদিন রোববার সেখানে দ্বিতীয় দফা হামলা চালায়। দ্বিতীয় হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হন। আবার গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে তৃতীয়বারের মতো হামলা চালিয়েছে হুতিরা।
Visit afnews.co.za for more information.
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ার মুহূর্তে আতঙ্কিত যাত্রীরা মেঝেতে শুয়ে পড়ছেন। রাজধানীর ২২ মাইল উত্তরে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটির টার্মিনাল ভবন হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক আক্রমণ চালাচ্ছে। তাদের এই অভিযান ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সামরিক আঘাত। এই সহিংসতা আপাতদৃষ্টিতে আরব উপদ্বীপে সীমাবদ্ধ মনে হলেও এর বৈশ্বিক ঝুঁকি অনেক গভীর। এই সংঘাত বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মূল্যস্ফীতি তীব্র করে তুলতে পারে।
হুতিদের এই আক্রমণের পেছনে সুযোগসন্ধানী কৌশলের পাশাপাশি পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতি কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বছরের শুরুতে ইরানে আগ্রাসন শুরু করলে হুতিরা শুরুতে কিছুটা দূরে ছিল। কিন্তু সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি গত মাসে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। তারা লোহিত সাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কবজায় নিয়ে ফেলে। এই নৌপথ দিয়েই মূলত মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে যায়।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা গত সপ্তাহে হুতিদের ওই প্রণালি থেকে হটিয়ে দিতে বড় ধরনের পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তারা হুতিদের বিভিন্ন ঘাঁটিতেও আঘাত হেনেছে। সৌদি আরব শুরু থেকেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সব ধরনের সামরিক সমর্থন দিচ্ছে। এই সমর্থনের কারণেই রিয়াদ এখন সরাসরি হুতিদের নিশানায় পরিণত হয়েছে।
হুতিরা সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। এসব স্থাপনা সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক মর্যাদার প্রতীক। হুতিরা এই আঘাতের মাধ্যমে রিয়াদকে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে মদদ দেওয়ার সামরিক খেসারত কতটা চড়া হতে পারে।
তেহরান এই হামলার মাধ্যমে বড় রাজনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে তাদের কথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ হিসেবে হুতিদের সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে আসছে। লোহিত সাগর ও সৌদি আরবে হুতিদের এই হামলা আবারও একটি বিষয় প্রমাণ করেছে। তেহরান ও তাদের মিত্ররা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের ওপর বিশাল প্রভাব খাটানোর ক্ষমতা রাখে।
সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ২০২৬ সালের ২১ মে মক্কায় একটি সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিচ্ছেনহুতিদের সাম্প্রতিক আক্রমণ গত এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবের মাটিতে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ঘটনা। এই হামলার কারণে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচলে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার বড় বড় বিমান সংস্থা রিয়াদের উদ্দেশে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
রিয়াদের বাণিজ্যিক এলাকার শীর্ষ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষ এই সপ্তাহে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি পাঠদান বন্ধ রেখে অনলাইন ক্লাসের নির্দেশ দিয়েছে। এমনকি রাজধানীতে নির্ধারিত একটি বড় জ্বালানি সম্মেলন থেকে বিশ্বের শীর্ষ তেল নির্বাহীদের নাম শেষ মুহূর্তে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরব কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে পরোক্ষভাবে যুক্ত থেকেছে। তবে দেশটির নিজস্ব মাটিতে যুদ্ধের সহিংসতা খুব কমই আঘাত হেনেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটি নিজেকে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে জড়িয়ে ফেলেছে। সৌদি শাসকেরা এত দিন যেকোনো মূল্যে এই পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে চেয়েছিলেন।
সৌদি আরব সামরিক খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। অস্ত্র আমদানির দিক থেকে দেশটি বিশ্বে অষ্টম স্থানে রয়েছে। তবে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ প্রতিহত করা রিয়াদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিশ্লেষক থমাস জুনো বলেছেন, সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হুতিদের কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে পেরেছে, সত্য। তবে সৌদি আরবের ভৌগোলিক আয়তন এতটাই বিশাল যে পুরো দেশের আকাশসীমা সব সময় সুরক্ষিত রাখা প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব।
অন্য সামরিক বিশ্লেষকেরা বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁরা বলছেন, ইসরায়েলের বিশ্বখ্যাত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও গত বছর তাদের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর আঘাত হানা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে ব্যর্থ হয়েছিল।
আগাম বিমান হামলা চালিয়ে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করাও কোনো সহজ কাজ নয়। ২০২৫ সালে মার্কিন বোমাবর্ষণ প্রমাণ করেছে, এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ধ্বংস করা কতটা জটিল। বিশেষ করে ইরানি প্রযুক্তি, পরামর্শ ও অর্থায়নে তারা নিজেদের অস্ত্রের ক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বাড়িয়ে নিয়েছে।
হুতিরা দাবি করেছে, তাদের এই হামলা সৌদি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি পাল্টা জবাব। তারা ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এই হামলা চালাচ্ছে। তবে তারা হামলা থামানোর কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না।
হুতিদের পরিচালিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি শত্রু যদি ইয়েমেনে নিজেদের আগ্রাসন ও হস্তক্ষেপ বন্ধ না করে, তাহলে সামনে তাদের জন্য আরও ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।
হামলার ঘটনার পর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে আছে। রিয়াদ, সৌদি আরব, ১০ অক্টোবরসৌদি আরব পাল্টা বিমান হামলা বন্ধ করবে এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে হুতিদের ছোড়া প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে আটকে দেওয়ার মতো সক্ষমতাও রিয়াদের নেই। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈরিতা শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। এই দুই দেশের সংঘাতই মূলত ইয়েমেনের সহিংসতা বাড়িয়ে তোলার পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।
লন্ডনের চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ফারেয়া আল-মুসলিমি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বছরের পর বছর ধরে হুতিদের সামরিক শক্তিকে অবমূল্যায়ন করে এসেছে। তিনি মন্তব্য করেছেন, হুতিরা সত্যি সত্যিই তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা অনেক বাড়িয়েছে।
হুতিরা বিশ্বাস করে, এই লড়াই তাদের পুরো অঞ্চলে প্রভাবশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। তারা এখন নিজেদের অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও ক্ষমতাবান মনে করছে। তবে পরিস্থিতি তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে বলে যা ভাবছে, বাস্তবে তা মারাত্মক এক বিভ্রম ছাড়া আর কিছুই নয়।